গৃহবধূ ধর্ষণে ঝিনাইদহের এক জনের ১৪ বছর জেল

#ঝিনাইদহের চোখঃ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক গৃহবধূকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় দুই জনকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক জিয়া হায়দার এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলো ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার আলাইপুর গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে লিপন আলি ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের সোনাই মন্ডলের ছেলে হাবিল হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালে ৯ নভেম্বর বিকেলে ওই গৃহবধূ শ্বশুড়বাড়ি যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার বড়খাপুর গ্রাম থেকে পিতার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর আন্দুলবাড়িয়া গ্রামে যাচ্ছিলেন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে জীবননগর আন্দুলবাড়িয়া বাজারে অপেক্ষা করছিলেন। পরে হেটে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় গ্রামের মাঠে তাকে একা পেয়ে হাবিল হোসেন, লিপন আলিসহ ৫-৭ জন অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোটরসাইকেলযোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
গৃহবধূর পরিবার অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ৩ দিন পর উপজেলার ভোমরাডাঙ্গা গ্রাম থেকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে। অভিযুক্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
পরে ১২ নভেম্বর হারেজ মন্ডল বাদি হয়ে দুই জনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে জীবননগর থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। জীবননগর থানার এসআই শেখ আজগর আলি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি দুই জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
দীর্ঘ ৫ বছর পর ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক একজন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৪ বছর করে কারাদণ্ড ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় লিপন আলি আদালতে উপস্থিত ছিলো। অন্য আসামি হাবিল হোসেন পালাতক।