ঝিনাইদহ সদরটপ লিড

ঝিনাইদহে বর্গাচাষিরা আগ্রহ হারাচ্ছে ধান চাষে

মনজুর আলম, ঝিনাইদহের চোখ

ঝিনাইদহের ধান চাষিরা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং সঠিক দাম না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন । তবে সব চেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছেন বর্গা চাষিরা। তারা জমির মালিককে জমি বর্গার টাকা পরিশোধ কওে উৎপাদন খরচই উঠছেনা। বাধ্য হয়ে অনেক বর্গা চাষি জমির মালিককে জমি ফেরত দিচ্ছেন। আগ্রহ হারাচ্ছেন ধান চাষে। তারা ইজিভ্যান, স্বল্প পুজিতে চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছে।


ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, ঝিনাইদহে গত ২০১৪ সালে ধানের আবাদ করা হয় ১’লাখ ৬২’হাজার ৯’শ ২৫ হেক্টর জমিতে। ২০১৮’সালে আবাদ করা হয় ৯৪’হাজার ৮’শ ৯২হেক্টর জমিতে। বর্তমানে ধানা কাটার মৌসুম চলছে।

উপজেলার শংকরপুরের ধান চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কয়েক বছর ৫০’শতক জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে আসছি। যে পরিমাান ধান উৎপাদন হয়, জমির মালিকের টাকা পরিশোধ করার পর যা থাকে তা খাওয়া চলে। কয়েক মৌসুমে ধান চাষ করে মালিককে লিজের টাকা দেয়ার পর উৎপাদন খরচই ওঠেনি। বাধ্য হয়ে লিজের জমি ফেরত দিয়ে অন্য কাজ করতে বাধ্য হয়েছি।

কৃষক দাউদ হোসেন, তারিকুল ইসলাম জানান, আমরা ধান চাষ করছি। লাভবান হচ্ছে রাইছ মিল মালিকেরা। তারা ধান কিনে ধানের পালিশ গুড়া বিক্রি করছে। তাছাড়া ধানের দাম কম হলেও চালের দামতো আর কম নেই। তারা আরো জানান, গত শনিবার ডাকবাংলা বাজারে ধান বিক্রি হয়েছে ৬’শ-সাড়ে ৬’শ টাকা।

ধান ব্যবসায়ি উজ্বল হোসেন জানান, ব্যবসায়িরা অধিক পরিমান ধান কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেনা। ধান কেনার পর ব্যাংক লাভ, গোডাইন ভাড়াসহ খরচ হয়। সরকারি ১০ টাকা কেজি আবার এলসি’র চাল আসে। বাজারে কখন পরিবর্তন আসে ঠিন নেই। তাই যে সকল ব্যবসায়ি ধান বান্ধাই করে, তারা ধান বান্ধাই করতে চাচ্ছেনা। রানিং ব্যবসায় আগ্রহ করছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button