
জিয়াউর রহমান জিয়া, ঝিনাইদহের চোখঃ
ঝিনাইদহে পদ্মা থেকে গড়াই, গড়াই থেকে ভৈরব ও মাথাভাঙ্গা থেকে কপোতাক্ষ নদের উৎপত্তি। কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গা হয়ে ঝিনাইদহের মহেশপুরে প্রবেশ করে নদটি এখন মৃত প্রায়।
জীবননগর থানার বকুন্ডিয়া, মারুফদা কোল ঘেঁষে মহেশপুর উপজেলার পুরন্দপুর, খালিশপুর,সাড়াতলা, কদমতলা, ফতেপুর, বেগমপুর, বুচিতলা, মহেশপুর, ভালাইপুর, সুন্দরপুর, কোটচাঁদপুর হয়ে যশোর জেলার চৌগাছা, ঝিকরগাছা, কেশবপুর, সাগরদাঁড়ি চলে গেছে।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি কবি নদের কথা স্মরণ করেন ফ্রান্সের ভার্সাই নগরে বসে। বিখ্যাত কপোতাক্ষ নদ কবিতাটি লেখেন তিনি।
সতত হে নদ, তুমি পড় মোর মনে….
কবির লেখা কবিতা মানুষকে মনে করিয়ে দেয় কপোতাক্ষ নদ যুগ যুগ ধরে আমাদেরকে কি উপকার করে। স্বচ্ছ পানির নদটি এখন মৃত প্রায়। নদীটি খালিশপুর বাজারের দুই ধারে, মহেশপুর পৌরসভার অংশে দুই ধারে ভূমিদস্যুদের দ্বারা দখল হয়ে গেছে।
সম্প্রতি হাই কোর্টের এক নির্দেশনায় প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে তা পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। নদ-নদী দখলকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে সাজা-জরিমানা নির্ধারণ করা অভিযোগ দায়ের পদ্ধতিসহ ইত্যাদি নদী কমিশন আইনে অন্তর্ভুক্ত করে ৬ মাসের মধ্যে তা আদালতে দাখিলসহ অনেক নির্দেশনা দিয়েছে।
বর্তমানে মহেশপুরে নদী দখল করে চলছে কৃষি আবাদ, পুকুর খনন, ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। এ সকল দখলদার যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তাদের ছত্রছায়ায় থাকে। এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতারা পৃষ্টপোষক হিসেবে কাজ করে। ফলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখায়।
স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছে, যেহেতু সরকার অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আন্তরিক ও হাই কোর্টের নির্দেশনা রয়েছে সে ক্ষেত্রে শুষ্ক মৌসুমে দ্রুত নদী কমিশনের আইন অনুযায়ী জরিপ চালিয়ে নদীর জায়গা উদ্ধার করে খনন করে আগের যৌবন ফিরিয়ে আনা।
এক সময় এই কপোতাক্ষ নদ দিয়ে নদী পথে এই এলাকার মানুষ বিভিন্ন পণ্য কলকাতায় রফতানি করতো। ব্রিটিশ আমলে জগেশ এবং পরেশ নামে ২টি লঞ্চ কলকাতায় যাতায়াত করতো। সে সময় এ এলাকায় উৎপাদিত খেজুরের গুড়ের চিনি বনিকরা সংগ্রহ করে কলকাতা হয়ে লন্ডলে নিয়ে যেতেন।
মহেশপুরসহ এ অঞ্চলের মানুষ বর্তমান সরকারের কাছে অবৈধ দখলদারমুক্ত করে পুনঃখননের জোর দাবি জানিয়েছে।