ঝিনাইদহে কোচিং ব্যাবসাকে আড়াল করতে রাতারাতি সাইন বোর্ড

সুলতান আল একরাম, ঝিনাইদহের চোখঃ
ঐতিহ্যবাহী ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের কারনে ঝিনাইদহ বিখ্যাত। অধিকাংশ অভিভাবকদের স্বপ্নের চাওয়া তার সন্তানকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করা। তাই অধিকাংশ অভিভাবকেরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যায় তার সন্তানকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করাতে। আর শিক্ষাকে পুঁজি করে এই সুযোগের সৎ ব্যাবহার করে নিচ্ছে এক শ্রেনির কোচিং ব্যাবসায়ীরা। হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষিরা,নাটোর, বরিশাল, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝিনাইদহের ক্যাডেট কোচিং এর চটেকদার প্রচার করা হয়। অভিভাবকদেরকে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের পোষাক পরিধানরত ছবি সস্বলিত পোষ্টার, লিফলেট, ব্যানার ইত্যাদির মাধ্যমে তাদেরকে প্রলোভন দেখায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অভিভাবকেরা প্রলুব্ধ হয়ে তাদের সন্তানকে ক্যাডেট বানানোর স্বপ্নে ঝিনাইদহের কোচিংগুলোতে আবাসিক বা অনাবাসিক ছাত্র হিসাবে ভর্তি করে লক্ষ লক্ষ টাকার যোগান দিয়ে যাচ্ছে।
ঝিনাইদহ শহরে বাসা বাড়ি ভাড়া করে যে সকল প্রতিষ্ঠান ক্যাডেট কোচিং করায় তাদের মধ্যে শাহিন ক্যাডেট কোচিং, কচা তলার মোড়, অনির্বান প্রিক্যাডেট, এইস এস এস রোড, অপু এমপির বাড়ির সামনে, প্রগতি প্রিক্যাডেট, মহিলা কলেজ পাড়া, প্যারামাউন্ট ক্যাডেট কোচিং(৩টি শাখা), মনজার মহল, আজাদ রেষ্ট হাউজের সামনে ১টা শাখা,কচাতলার মোড়, আদর্শপাড়াতে ১টা শাখা, এবং পবহাটি তে ১টা শাখা, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কোচিং, রফির মিল, আদর্শ পাড়া, ওরিয়েন্টাল ক্যাডেট কোচিং, সিদ্দিকিয়া সড়ক, পাগলাকানাই মোড়, উল্যেখযোগ্য।
একাধিক সুত্রের মাধ্যমে জানা যায়, স্কুলের বেতন ৮০০ টাকা, আবাসিক চার্য ৮০০০টাকা, কোচিং ফি ২০০০ টাকা, সান্ধকালীন পড়া ওকে ফি ৬০০ টাকা অন্যান্যসহ একজন ৬ষ্ঠ শ্রেনির ছাত্রের জন্য শুধু কোচিং সেন্টারকে প্রদান করতে হয় মাসিক ১১,৪০০ টাকা। এছাড়াও কোচিং সেন্টারের বাংলা, ইংরেজি ও গনিতের শিক্ষকরা পালাক্রমে বাসায় গিয়ে ১০ জনের একটি ব্যাচ করে সপ্তাহে তিনদিন পড়িয়ে আসে সেখানে ছাত্র প্রতি ১৫হাজার মোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রত্যেক শিক্ষক ৫০ হাজার টাকা করে ভাগ করে নেয়। বিভিন্ন পাড়াতে এসব শিক্ষকদের একাধিক ব্যাচ আছে। দুপুর ৩টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত তারা এই প্রাইভেট কার্যক্রম চালিয়ে যায়। যে সকল শিক্ষকরা বাসায় গিয়ে ব্যাচ করে কোচিং করায় তাদের মধ্যে অন্যতম,অনির্বান প্রিক্যাডেট এর গণিত শিক্ষক বিধান স্যার, ইংরেজি শিক্ষক নয়ন স্যার, বাংলার শিক্ষক উত্তম স্যার , ওরিয়েন্টাল ক্যাডেট কোচিং এর জাহিদ স্যার (রামনগর কলেজের ইংরেজি প্রভাষক), বাংলার শিক্ষক আযাদ স্যার (লাউদিয়া কলেজের বাংলার প্রভাষক) গণিতের শিক্ষক বিকাশ স্যার(ফুলহরি স্কুলের গনিতের শিক্ষক)।
ভুক্তোভোগীরা জানায়,অনেক পরিবার তাদের সন্তানকে কোচিং করানোর জন্য দুই তিন বছর যাবৎ ঝিনাইদহে অবস্থান করে দীর্ঘদিন ধরে কোচিং করায়। কোচিং মালিকেরা অভিভাবকেদেরকে পরামর্শ দেয় যে, দুই বছর বা তিন বছর ধরে ক্যাডেট কোচিং করালে চান্স নিশ্চিত তাই প্রথম বছরে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করিয়ে দুই/তিন বছর একই ক্লাসের পড়া পড়াতে থাকে। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার পরে তাদেরকে মেডিকেল ও ভাইভা পরীক্ষায় পাশ করানোর কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসব ক্যাডেট কোচিং সেন্টার গুলোর বিরুদ্ধে। একে অন্য জনের বিরুদ্ধে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগও করে থাকে এসব কোচিং সেন্টারের মালিকরা। এছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠনগুলোর বিরুদ্ধে ৬ষ্ঠ/৭ম শ্রেণির আবাসিক ছাত্রদেরকে দিয়ে গ্রামের স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পাওয়ানোর জন্য সমাপনি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের অভিযোগও আছে ।
সাম্প্রতিক কোচিং বন্ধের আইন পাশ হওয়া এবং বর্তমান সরকার এব্যাপারে কড়া হুশিয়ারী দেওয়ায় ঝিনাইদহের কোচিং মালিকেরা অভিনব কায়দায় কোচিং ব্যাবসাকে চালিয়ে যাওয়ার কৌশল আবিস্কার করেছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য তারা তাদের সাইন বোর্ড থেকে “কোচিং” শব্দটা বাদ দিয়ে “স্কুল” বা “একাডেমি” লেখা শুরু করেছে। ১ হাজার টাকার বিনিময়ে কিন্ডার গার্টেন সমিতিতে নাম অর্ন্তভুক্ত করে কেজি স্কুলের সাইন বোর্ডের আড়ালে কোচিং ব্যাবসাটাকে চালিয়ে যাচ্ছে সুকৌশলে।
এব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার দেব জানান এধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।